শেখ হাসিনার মামলার রায় এবং ভল্টে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের খোঁজ পাওয়ার ঘটনার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এসব ঘটনায় কিছুটা ‘দমে’ গেছেন।
Advertisement
তারা বলছেন, মাঠপর্যায় থেকে ঝুঁকি নিয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম করার কারণে তাদের জন্য ক্রমশ ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। গ্রেফতার আতঙ্কে তাদের থাকতে হচ্ছে লুকিয়ে। শত শত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ঝুলছে হত্যা ও দুর্নীতির মামলা। ফলে এমন পরিস্থিতির মধ্যে দলীয় প্রধানের বিষয়ে নেতিবাচক খবর তাদের বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে।
তাদের মতে, উদ্ধার করা স্বর্ণ তার পরিবারের সদস্যদের হলেও এটি আয়কর নথিতে দেখানো হলেও নেতিবাচক আলোচনা কম হতো। ফলে পুরো বিষয়টি নেতাকর্মীদের হতবাক করেছে।
জানা গেছে, এসব ঘটনায় আওয়ামী লীগের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। দলটির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা হতবাক হয়েছেন। কারণ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে ভেতরে ভেতরে এতকিছু ঘটেছে, যা তাদের জানা ছিল না। বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের আদৌ এসব সম্পদ অর্জনের প্রয়োজন ছিল কি না-এমন প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ। তারা বলছেন, আওয়ামী লীগ কোনোদিন ফিরে এলেও সম্পদ অর্জনের এসব ঘটনা ইতিহাস হয়ে থাকবে।
অনেকের মতে, এসব ঘটনা নৈতিক দিক থেকেও দলটিকে কিছুটা দুর্বল অবস্থানে ঠেলে দেবে। বিশেষ করে, শেখ হাসিনার নির্দেশে নানাভাবে তৎপর থাকার অংশটির মধ্যে এসব ঘটনা নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমতায় থাকতে শেখ হাসিনা নিজেকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে মনে করতেন। ফলে এ ধরনের অন্যায়-দুর্নীতির খবরে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তাদের মতে, দলীয় প্রধানের এ ধরনের কর্মকাণ্ড নেতাকর্মীদের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা দেয়। তাদের মনোভাব দুর্বল করে। অপরাধ স্বীকার করার মানসিকতা সৃষ্টি হলে হয়তো তা দলের রাজনীতিতে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারত।
পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের মনোবলও চাঙা রাখতে সহযোগিতা করত। কিন্তু একের পর এক ঘটনা সামনে আসায় সেই সম্ভাবনা খুব একটা দেখছেন না তারা।